21 August, 2019

নাম :

অবকাঠামোগত সুবিধাঃ গবেষণাগারের কেপিআই ব্ল¬কে প্রধান গবেষণাগার ভবনটি একটি আধুনিক স্থাপত্যের ত্রিতল ভবন। এর ফ্লোর স্পেস ৭০ হাজার বর্গফুট। এতে ৮টি বিভাগ ও ১টি সেলসহ গবেষণাগারের সমগ্র কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পাইলট প্ল¬ান্ট, ওয়ার্কশপ, জেনারেল স্টোর, প্রকৌশল ও কেমিক্যাল স্টোর, মডার্ন গ্রীন হাউজ, এক্সট্রাকশন প্ল¬ান্টসহ ছোট বড় অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কেপিআইভুক্ত স্থাপনা।

 

জনবলঃ ১৯৮৪ সনে এনাম কমিটি কর্তৃক অর্গানোগ্রাম অনুমোদন কালে চট্টগ্রাম গবেষণাগারের জন্য বিসিএসআইআর-এর মূল কাঠামোর আওতায় ২৩২ জনের অনুমোদিত জনবল কাঠামো সূচিত হয়। বর্তমানে অত্র গবেষণাগারে সর্বমোট ২৩১টি।

 

ইনস্টিটিউশনাল সেট-আপঃ চট্টগ্রাম গবেষণাগারের সার্বিক গবেষণা কর্মকান্ড ৮টি গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণা বিভাগগুলো যথাক্রমে- (১) কেমিক্যাল রিসার্চ, (২) ফার্মাকোলজি রিসার্চ, (৩) ইন্ডাষ্ট্রিয়াল মাইক্রোবায়োলজি রিসার্চ, (৪) ফাইটোকেমিস্ট্রি রিসার্চ, (৫) ইন্ডাষ্ট্রিয়াল বোটানী রিসার্চ (৬) মেডিসিনাল এন্ড এরোমেটিক প্ল্যান্ট রিসার্চ (৭) ফ্রুটস্ এন্ড ভেজিটেবলস্ রিসার্চ ও (৮) সয়েল ম্যানেজমেন্ট এন্ড এগ্রোনমিক্যাল রিসার্চ (৯) হাইড্রোজেন এনার্জি টেকনোলজি সেল।

 

এম.ফিল/পি.এইচ.ডি প্রোগ্রামঃ গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এস.সি (থিসিস), এম.ফিল ও পি.এইচ.ডি প্রোগ্রামের আওতায় তাঁদের ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা কার্যক্রমের সহায়তা প্রদান করেন।

 

লাইব্রেরী সুবিধাঃ গবেষণাগারে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি লাইব্রেরী চালু আছে। উক্ত লাইব্রেরীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন ডিসিপ্লি¬নের রেফারেন্স বই মজুদ আছে। গবেষকদের জন্য জার্নাল, ব্যাক ভলিয়ামসহ মূল্যবান প্রকাশনা বিদ্যমান।

 

আইটি-ইন্টারনেট সুবিধাঃ গবেষণাগারটি বর্তমানে ফাইবার অপটিক ব্রডব্যান্ডের সাথে ইন্টারনেট অন-লাইনে সংযুক্ত। এ নতুন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান চর্চার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের গবেষণার নতুন দিগন্ত সূচনা করেছেন।

 

সেন্ট্রাাল এনালাইটিক্যাল ল্যাব ফ্যাসিলিটিজঃ চট্টগ্রাম গবেষণাগারটিতে প্রয়োজনীয় ল্যাব ফ্যাসিলিটি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে যুগোপযেগাী করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (ঝঅগখ প্রকল্প) আওতায় গবেষণাগারটিতে এনালাইটিক্যাল এবং মাইক্রোবিয়াল ল্যাব নামে দুটি অত্যাধুনিক ল্যাবস্ স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ গবেষণা সরঞ্জাম ছাড়াও ঊষবসবহঃধষ অহধষুুবৎ, ঐচখঈ, ওঈচ-ঙঊঝ, অঅঝ, ইরড়ষধুবৎ ওহঃবৎভবৎড়সবঃৎু, ঐরময চবৎভড়ৎসধহপব গঁষঃরসড়ফব গরপৎড় চষধঃব জবধফবৎ ইত্যাদি স্থাপনের মাধ্যমে সেন্ট্রাাল এনালাইটিক্যাল ল্যাব ডেভেলপ করা হচ্ছে।

 

গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচীঃ বিসিএসআইআর কর্তৃক অনুমোদিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কর্ম গবেষণাগারের বিভিন্ন বিভাসমূহে চলছে। উক্ত প্রকল্পের গবেষণা ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত হতে সংশ্লি¬ষ্ট বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ, পেটেন্ট ও প্রসেস তৈরি করে গবেষণার নতুন মাত্রা সংযোগ করছেন।

 

টিস্যু কালচার ল্যাবঃ ইতোমধ্যে গবেষণাগারের একটি নতুন টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত ল্যাবের গ্রোথ চেম্বারের মাধমে বিলুপ্ত প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদের প্ল্যান্ট ব্রিডিং-এর কাজ অগ্রসরমান।

 

মানব সম্পদ উন্নয়নঃ গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা উচ্চ শিক্ষা যথাক্রমে এম.ফিল, পি.এইচ.ডি, পোষ্টডক্টোরাল ফেলো, ডব্লিউএইচও ফেলোসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন আয়োজিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ-এ অংশগ্রহণ করে সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন তথা বিসিএসআইআর-এর গবেষণা ও উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

 

ল্যাব এনিম্যাল ব্রিডিং সেন্টারঃ চট্টগ্রাম গবেষণাগারে একটি আধুনিক ল্যাব এনিম্যাল ব্রিডিং সেন্টার চালু আছে। বাংলাদেশে এরূপ সেন্টার অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠনগুলোতে নেই। এখানে জধনরঃ, গরপব, জধঃ, এঁরহবধঢ়রম ইত্যাদি প্রাণী সংরক্ষণ, প্রজনন ও গবেষণায় ব্যবহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। খাদ্যে ও ঔষধে বিষক্রিয়া (ঞড়ীরপরঃু) নিরূপণে উক্ত প্রাণী দ্বারা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

 

এড-হক এন্ড রয়েলটিসঃ প্রায় ২০০ প্যারামিটারের পরীক্ষণ সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রাম গবেষণাগারে আমদানীকৃত পণ্যের মান নির্ণয়সহ সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত নমুনার গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রাসায়নিক পদার্থ, শিল্প কারখানার বর্জ্য, বিভিন্ন প্রকার ড্রাগস্, খাবার পানি, ফলমূল, শাকসবজি, সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া কাস্টমস হাউজ, পোর্ট অথরিটিসহ সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষা করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

ইন্ডাষ্ট্রিয়াল এডভাইজরী সার্ভিসঃ গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা সহ কারিগরী সুবিধার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া গবেষণাগারের উদ্ভাবিত প্রোডাক্টসমূহ লিজ নেওয়ার পর তাদের উৎপাদনের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল স্কেলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানঃ গবেষণার পাশাপাশি উক্ত গবেষণাগারের পরিচালক পদাধিকার বলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। প্রতিষ্ঠান প্রধান, পরিচালক মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য। তাছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর উন্নয়ন কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ও চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি এডভাইজরী সদস্য, বিএসটিআই-এর টেকনিক্যাল কমিটিসমূহের সদস্য।

 

বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীঃ গবেষণাগারে সমগ্র এলাকায় প্রতি বছর বৃক্ষ রোপণ, এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধমে সমগ্র ক্যাম্পাসটি একটি সুন্দর, ছায়াশীতল সুনিবিড় বোটানিক্যাল গার্ডেন হিসাবে গড়ে উঠেছে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ভেষজ, ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদের সংরক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ উদ্ভিদে ক্যাম্পাসটি সুশোভিত।

 

রাঙ্গামাটি গবেষণা উপকেন্দ্রঃ বিসিএসআইআর গবেষণাগার, চট্টগ্রাম এর আওতায় রাঙ্গামাটিস্থ পার্বত্য জেলায় ১.৬৪ একর ভূমির ওপর একটি উপকেন্দ্র চালু আছে। উক্ত উপকেন্দ্রটি পার্বত্য জেলা উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্প চলাকালীন সময়ে স্থাপিত হয়। উক্ত উপকেন্দ্রে এক্সট্রাকশন প্ল¬ান্টসহ একটি অবকাঠামো বিদ্যমান। বর্তমানে উক্ত উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পার্বত্য জেলায় ভেষজ, ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদের সংগ্রহ কাজ চালু আছে।

 

প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয় কার্যক্রমঃ গষেণাগারের ক্যাম্পাসে ৩.৮৬ একর ভুমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিবিএসআইআর ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৮৯ সন হতে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয় হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান, পরিচালক পদাধিকার বলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন।

 

বিজ্ঞান ও শিল্প-প্রযুক্তি মেলার আয়োজনঃ বিভিন্ন স্কুল কলেজের মেধাবী ও বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে বিসিএসআইআর গবেষণাগার চট্টগ্রাম প্রতি বছর বিজ্ঞান ও শিল্প-প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করে থাকে।